মেডি নিউজ

[মেডি নিউজ][bleft]

আইন না জানার মাশুল: প্রতিদিনের ছোট ভুলেই বড় ঝুঁকি

আইন না জানার মাশুল: প্রতিদিনের ছোট ভুলেই বড় ঝুঁকি

বাংলাদেশে অনেক মানুষের ধারণা, আইন মানেই আদালত, মামলা, উকিল কিংবা বড় কোনো অপরাধ। বাস্তবতা হলো—আইন আমাদের প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ঘর থেকে বের হওয়া, রাস্তায় চলাফেরা, কেনাকাটা, মোবাইল ফোন ব্যবহার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়া—প্রতিটি কাজের সঙ্গেই কোনো না কোনো আইন যুক্ত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হন আইনের অজ্ঞতার কারণে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ জানেন না যে তিনি একটি আইন ভঙ্গ করছেন, কিন্তু আইন না জানার অজুহাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আইন না জানার অজুহাত চলে না
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে একটি সুস্পষ্ট নীতি রয়েছে—“আইন না জানার অজুহাতে কেউ দায়মুক্তি পায় না।” অর্থাৎ আপনি যদি আইন সম্পর্কে না জেনেও কোনো অপরাধ করেন, তবুও শাস্তি থেকে রেহাই পাবেন না।

অনেকেই বলেন, “আমি তো জানতাম না এটা অপরাধ।” কিন্তু আদালতের কাছে এই যুক্তির কোনো মূল্য নেই। তাই নাগরিক হিসেবে ন্যূনতম আইনি জ্ঞান থাকা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন।
রাস্তায় চলাচলে আইনি সচেতনতা জরুরি

দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বেশি আইন ভাঙা হয় রাস্তায় চলাচলের সময়। হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো, রেড সিগনাল অমান্য করা কিংবা ফুটপাতে গাড়ি পার্ক করা—এসবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বর্তমানে ট্রাফিক আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। জরিমানার পাশাপাশি মামলা, এমনকি লাইসেন্স বাতিল হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। অনেক সময় এসব মামলার কথা চালকরা জানতেও পারেন না, পরে বড় ঝামেলায় পড়েন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার আগে ভাবুন
ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এখন আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু ভুয়া খবর, গুজব, মানহানিকর লেখা বা কাউকে অপমান করে দেওয়া পোস্ট আইনত অপরাধ।

শুধু পোস্ট লেখাই নয়—ভুল তথ্য শেয়ার করাও অপরাধের অংশ হতে পারে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ প্রচলিত অন্যান্য আইনে এসব অপরাধের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সামান্য অসতর্কতায় বড় আইনি জটিলতায় পড়ার বহু উদাহরণ রয়েছে।

গ্রেপ্তার হলে আপনার মৌলিক অধিকার কী
পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করলে আইন অনুযায়ী কিছু অধিকার নিশ্চিত করতে হয়। গ্রেপ্তারের কারণ জানানো বাধ্যতামূলক এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হয়।

এ ছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনজীবীর সহায়তা নেওয়ার অধিকার রাখেন। এসব বিষয় না জানার কারণে অনেক মানুষ ভয় পেয়ে যান এবং অপ্রয়োজনীয় স্বীকারোক্তি দিয়ে ফেলেন, যা পরে সমস্যা তৈরি করে।

ভোক্তা হিসেবে আপনার অধিকার জানেন তো?
পণ্যের গায়ে লেখা দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া, ভেজাল পণ্য বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সরবরাহ—এসবই আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে অভিযোগ করলে জরিমানা ছাড়াও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ভোক্তা এই আইনের কথা জানেন না বলেই প্রতারিত হয়েও চুপ থাকেন।

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় আইনের ভূমিকা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের আশপাশে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি আইনত নিষিদ্ধ। এসব আইন মূলত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য করা হয়েছে।

তবুও সচেতনতার অভাবে অনেক দোকানি ও ক্রেতা প্রতিদিন এই আইন ভঙ্গ করছেন এবং জরিমানার মুখে পড়ছেন।

কেন আইন জানা জরুরি
আইন জানা মানে শুধু শাস্তি এড়ানো নয়। আইন জানা মানে নিজের অধিকার বোঝা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং হয়রানি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা।

একজন সচেতন নাগরিক আইন জানলে পুলিশ, প্রশাসন কিংবা যেকোনো পক্ষের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে আইনি পথে কথা বলতে পারেন।


একটি শক্তিশালী ও সুশাসিত রাষ্ট্র গঠনে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সচেতন নাগরিক। নিজের নিরাপত্তা, সম্মান ও অধিকার রক্ষার জন্য আইনের ন্যূনতম জ্ঞান থাকা আজ অপরিহার্য।

নিজের স্বার্থেই আইন জানুন, পরিবার ও সমাজে আইন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করুন। আইন জানা মানেই নিরাপদ জীবন।

সৌজন্যে: খোলাপোস্ট | আইন ও সচেতনতা
আইন না জানার মাশুল: প্রতিদিনের ছোট ভুলেই বড় ঝুঁকি আইন না জানার মাশুল: প্রতিদিনের ছোট ভুলেই বড় ঝুঁকি Published by Rasel Bapy on জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

কোন মন্তব্য নেই: