দেশজুড়ে কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার দাপট আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আপাতত সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে বিশেষ করে ভোর ও রাতের দিকে শীতের অনুভূতি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যা জনজীবনে ভোগান্তি বাড়াতে পারে।
ঘন কুয়াশার কারণে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ভোরের দিকে অনেক জায়গায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে কুয়াশার প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। নদী পথেও কুয়াশার কারণে লঞ্চ ও ফেরি চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।
শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও কর্মজীবীরা। কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে রোববার সকাল থেকেই শ্রমজীবী মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্নআয়ের কর্মীরা কাজে বের হয়েছেন। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, “এ সময়টাতে কুয়াশা পড়া স্বাভাবিক। বড় ধরনের শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা এখনই না থাকলেও কুয়াশা ও শীতের অনুভূতি আরও কয়েক দিন থাকতে পারে।” তিনি আরও জানান, বাতাসের গতি কম থাকায় কুয়াশা সহজে কাটছে না।
কৃষি খাতেও কুয়াশার প্রভাব পড়ছে। কৃষকরা বলছেন, ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো ঠিকমতো না পাওয়ায় শীতকালীন সবজি ও বোরো ধানের বীজতলায় কিছুটা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।
এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর সবাইকে প্রয়োজন ছাড়া ভোর ও গভীর রাতে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি যানবাহন চালকদের কুয়াশার সময় হেডলাইট ব্যবহার ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলাচলের অনুরোধ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, রোববার থেকে শুরু করে আগামী কয়েক দিন কুয়াশা ও শীতের প্রভাব অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও বড় ধরনের তাপমাত্রা পরিবর্তনের আশঙ্কা আপাতত নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

কোন মন্তব্য নেই: