মেডি নিউজ

[মেডি নিউজ][bleft]

কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে চিঠি: “হাদী হত্যার প্রকাশ্যে বিচার চাই”

কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে চিঠি: “হাদী হত্যার প্রকাশ্যে বিচার চাই”

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে তিন মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খোলার সময় একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭ টার দিকে জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এবং পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনের উপস্থিতিতে মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। তাছাড়া বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।

দানের বস্তাগুলো মসজিদ কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় আনা হয় এবং গণনা শুরু করা হয়। এতে ধরা পড়ে ৩৫ বস্তা টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা। তবে সবকিছুর মধ্যেই সবচেয়ে আলোচিত হলো নাম-পরিচয়হীন এক ব্যক্তির লেখা চিঠি। চিঠিতে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে—“হাদী হত্যার প্রকাশ্যে বিচার চাই।”

মসজিদে মানুষের ব্যক্তিগত মনোবাসনা, আশা ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের জন্য নিয়মিতভাবে দানবাক্সে চিঠি পাওয়া যায়। এর আগে এক চিঠিতে লেখা হয়েছিল—“ডাইনি হাসিনাকে তার কর্মের শাস্তি না দেখা পর্যন্ত আমাকে বাঁচিয়ে রাখ। আল্লাহ অনেক আলেমকে কষ্ট দিয়েছেন। আমার প্রিয় সাঈদিকে অনেক অত্যাচার করা হচ্ছে।” এছাড়া আরও একটি চিরকুটে ছিল—“হে আল্লাহ, আমার স্বামী মোঃ জসিমকে পাগলা মসজিদের ওসিলাতে একটি ভালো চাকরির ব্যবস্থা করে দিন। আমাদের রিযিকের ব্যবস্থা করুন। আমিন।”

এই চিঠিগুলো দেখায় যে, মানুষ শুধু অর্থ দান করেন না, বরং নিজের ব্যক্তিগত প্রার্থনা, সামাজিক আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায্য বিচার প্রার্থনার জন্যও পাগলা মসজিদকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেন। মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, মসজিদটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে সকল ধর্মের মানুষ স্বেচ্ছায় দান করেন এবং তাদের অর্থ সমাজকল্যাণে ব্যবহৃত হয়।

পাগলা মসজিদের ইতিহাসে দানবাক্স খোলার সময় এমন চিঠি পাওয়া একটি সামাজিক বার্তা বহন করে। বিশেষ করে হাদী হত্যার বিষয়ে লেখা চিঠিটি দেশের নাগরিকদের মধ্যে ন্যায্য বিচার, সামাজিক নৈতিকতা ও সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা উসকে দিয়েছে। এছাড়া মানুষ তাদের ব্যক্তিগত আশা ও আকাঙ্ক্ষা, যেমন শিক্ষা, চাকরি ও পরিবারের কল্যাণ সম্পর্কিত প্রার্থনা প্রকাশের জন্যও এই স্থানে চিঠি রেখে যান।

মসজিদ কমিটি আশা করছে, দানবাক্সের অর্থ এবং প্রার্থনা যথাযথভাবে ব্যবহার হবে। জনগণ এবং সমাজের কল্যাণে এটি কাজে লাগবে। হাদী হত্যার প্রসঙ্গে লেখা চিঠি সমাজকে মনে করিয়ে দেয় যে ন্যায়বিচার, সামাজিক সচেতনতা এবং ব্যক্তিগত আশা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে পাগলা মসজিদ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে চিঠি: “হাদী হত্যার প্রকাশ্যে বিচার চাই” কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে চিঠি: “হাদী হত্যার প্রকাশ্যে বিচার চাই” Published by Rasel Bapy on ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫

কোন মন্তব্য নেই: