তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি: বোয়িংসহ ১০ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা
বেজিং, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের দুই পরাশক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। তাইওয়ানের কাছে উন্নত সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করার প্রতিক্রিয়ায় এবার সরাসরি অ্যাকশনে নেমেছে বেইজিং। মার্কিন বিমান নির্মাতা ও প্রতিরক্ষা খাতের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান বোয়িং ডিফেন্স (Boeing Defense) সহ অন্তত ১০টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন সরকার।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ বুলেটিনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বেইজিংয়ের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ তাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য সরাসরি হুমকি।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে আসছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন তাইওয়ানের জন্য যে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সামরিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তাতে রয়েছে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি, রাডার এবং জাহাজ বিধ্বংসী মিসাইল সিস্টেম। চীন শুরু থেকেই তাইওয়ানকে তাদের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। বেইজিংয়ের মতে, ওয়াশিংটনের এই অস্ত্র সহায়তা মূলত তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীকে উস্কানি দেওয়ার সামিল।
নিষেধাজ্ঞার কবলে কোন কোন প্রতিষ্ঠান?
চীনের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বোয়িং ডিফেন্স ছাড়াও রয়েছে আমেরিকার বেশ কিছু নামিদামি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান:
- বোয়িং ডিফেন্স, স্পেস অ্যান্ড সিকিউরিটি (BDS)
- লকহিড মার্টিন (Lockheed Martin)-এর বিশেষ কিছু উইং
- রেথিয়ন (Raytheon) এর সহযোগী ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানসমূহ
- অন্যান্য প্রযুক্তি সংস্থা যারা তাইওয়ানকে ইন্টেলিজেন্স ও সার্ভেইল্যান্স সাপোর্ট দেয়।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ও কঠোরতা
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে উক্ত মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো চীনে কোনো ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞার প্রধান পয়েন্টগুলো হলো: ১. চীনে থাকা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। ২. চীনের কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই কোম্পানিগুলোর সাথে কোনো লেনদেন করতে পারবে না। ৩. এই দশটি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চীন, হংকং এবং ম্যাকাও ভ্রমণে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। ৪. চীনের কোনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তাদের কাঁচামাল বা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করতে পারবে না।
গভীর হচ্ছে বাণিজ্যিক যুদ্ধ (Trade War)
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই পাল্টা আঘাতের ফলে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্যিক যুদ্ধ শুরু হতে পারে। বিশেষ করে ড্রোন এবং সেমিকন্ডাক্টর চিপ তৈরির কাঁচামাল সরবরাহে চীন বিশ্বের শীর্ষ দেশ। ফলে এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মার্কিন প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে হোয়াইট হাউস থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে একাধিকবার বলেছিল যে, তাইওয়ানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং সেই লক্ষ্যেই তারা সহায়তা চালিয়ে যাচ্ছে।
উপসংহার
দক্ষিণ চীন সাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের এই কড়া অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বেইজিং স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিলো যে, তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয়।

কোন মন্তব্য নেই: