সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি ট্রেনের সামনের অংশে একটি রাজনৈতিক দলের পোস্টার লাগানো হয়েছে। ছবিটি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে— তফসিল ঘোষণার পর এভাবে সরকারি সম্পত্তিতে রাজনৈতিক পোস্টার লাগানো কি আইনসম্মত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী, সরকারি যানবাহন, ভবন, অফিস কিংবা যেকোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রাজনৈতিক প্রচার বা বিজ্ঞাপনের কাজে ব্যবহার করা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। ট্রেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থায় পোস্টার লাগানো শুধু আচরণবিধি লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, ট্রেনের সামনের অংশে পোস্টার বা ব্যানার লাগালে চালকের দৃশ্যমানতায় সমস্যা হতে পারে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া অনুমতি ছাড়া পোস্টার লাগানোকে সরকারি সম্পত্তির অবৈধ ব্যবহার হিসেবেও গণ্য করা হয়।
আইন অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর যদি কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি সরকারি সম্পত্তি ব্যবহার করে প্রচার চালায়, তাহলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে— পোস্টার অপসারণ, সতর্কবার্তা, জরিমানা এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের সুযোগও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে সব দলেরই উচিত আচরণবিধি মেনে চলা। সরকারি সম্পত্তি ব্যবহার করে প্রচার চালানো একদিকে যেমন আইনের ব্যত্যয় ঘটায়, অন্যদিকে নির্বাচনের নিরপেক্ষ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের তদারকি আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা অটুট থাকে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অনেকেই। তারা আশা করছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যাবে।

কোন মন্তব্য নেই: