নিজস্ব প্রতিবেদক|ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। শনিবার রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর হাতে ফুল দিয়ে তাকে দলে স্বাগত জানান।
বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে সরাসরি আয়োজিত এই যোগদান অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই যোগদানকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে চায়। তিনি বলেন, “যাঁরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে চান, বিএনপি তাঁদের সবাইকে স্বাগত জানায়।”
রাশেদ খাঁন তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানুষের মৌলিক অধিকার সংকটের মুখে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব সংকট উত্তরণে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন, যেখানে বিএনপির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনা থেকেই তিনি বিএনপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ নয়, বরং দেশের জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আমি বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে চাই। সামনের দিনগুলোতে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখব।”
বিএনপি নেতারা জানান, রাশেদ খাঁনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা দলকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও নতুন যোগদানগুলো আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। রাশেদ খাঁনের বিএনপিতে যোগদান সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ বলে মনে করছেন তারা।
অনুষ্ঠান শেষে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

কোন মন্তব্য নেই: